Saturday, July 23, 2016

শাবির প্রথম ভিসি ছদরুদ্দিন চৌধুরী আর নেই

শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ভাষা সৈনিক . ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী মারা গেছেন।


শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকায় ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে অধ্যাপক . নাজিয়া চৌধুরী।
ছদরুদ্দিন চৌধুরীর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন।
সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী একাধারে শিক্ষাবিদ, পদার্থ বিজ্ঞানী, ভাষাসৈনিক, গবেষক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক ছিলেন।
উপাচার্যের দায়িত্ব পালনকালে নব্বইয়ের দশকে সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বেশ সুনাম অর্জন করেছিল।
১৯৩১ সালের লা জানুয়ারি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
১৯৫১ সালে এমসি কলেজ থেকে আইএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে রাজনীতি সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।
প্রায় ষাট বছরের শিক্ষকতা জীবনে ছদরুদ্দিন চৌধুরী চারটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো ১৯৯৪-৯৬ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির সভাপতি, ওর্য়াল্ড ইউনিয়ন অব ক্রিস্টালোগ্রাফির সদস্য ছিলেন।
সাদাসিদে জীবন যাপনের জন্য ছাত্র-শিক্ষক সবার কাছেই বেশ প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন ১৯৬৬ সালে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেষ্টার ইউনিভার্সিটি থেকেএক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফিবিষয়ে পিএইচডি অর্জন করা এই শিক্ষক।
এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফি বিষয়ে গবেষণা ছাড়াওহিউম্যান ইনসুলিনআবিষ্কার তার মৌলিক আবিষ্কার।
আন্তর্জাতিক জার্নালে তার অর্ধশতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৮৯ সালে থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০০৬ সাল থেকে সিলেট অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় গঠিত নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সিলেট শাখার সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন
ব্যক্তিজীবনে তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক।


খুতবা নয়, খুতবার বিষয়বস্তু চায় জমিয়তুল উলামা

ইসলামি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জুমার নামাজের খুতবা ঠিক না করে দিয়ে কেবল বিষয়বস্তু (থিম) ঠিক করে দেওয়ার পক্ষে মত এসেছে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার পক্ষ থেকে।

সংগঠনের ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি আল্লামা ইয়াহইয়া মাহমুদকে উদ্ধৃত করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “মসজিদের খতিবগণ কোকিলপাখি নন যে, কারোবুলি তারা প্রতি শুক্রবার আওড়াতে থাকবেন।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অনেক যাচাই-বাছাই করে খতিবদের নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ সাপেক্ষে কিছু থিম বলে দেওয়া যেতে পারে।
ইসলামি ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহম্মদ আফজালের নাম উল্লেখ করে ইয়াহইয়া বলেন, তিনি খুতবা নিয়ন্ত্রণ খতিব কাউন্সিল গঠন করতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা আলেমদের মধ্যে আবেদন তৈরি করতেচরমভাবে ব্যর্থ হবে
দেশে-বিদেশে সন্ত্রাসী হামলা শোলাকিয়ায় বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ফরিদউদ্দীন মাসউদকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শোলাকিয়া ঈদ জামাতের ইমাম ফরিদউদ্দীন ইসলামি ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
জমিয়তুল উলামার উদ্যোগে ইসলামের নামে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদকেহারামআখ্যা দিয়ে লক্ষাধিক মুফতি আলেম-ওলামাদের যে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়, সেখানে ইসলামি ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের স্বাক্ষর ছিল না।

গান কবিতায় জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের ডাক

বৃষ্টিতে ভিজে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গুলশানের অভিমুখেগান কবিতার মিছিলপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে সাংস্কৃতিক জোট।


শনিবার বিকাল ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এই পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করে সংস্কৃতিকর্মীরা। পদযাত্রাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ হাতিরঝিল হয়ে গুলশান- গিয়ে শেষ হয়।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারেমানবতা স্বদেশ ভাবনায় রুখে দাঁড়াও জঙ্গিবাদস্লোগান নিয়ে পালিত হয় এই কর্মসূচি।
পদযাত্রায় সাংস্কৃতিক কর্মীরা মুক্তিযুদ্ধের গান, মানবতার গান, স্বদেশ প্রেমের গান, জাগরণের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদে উত্তাল করে তোলেন ঢাকার রাজপথ।
সময় তাদের কণ্ঠে উঠে আসেএমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবোরে’, ‘মাগো ভাবনা কেন’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘মানুষ ভজলে ভবে সোনার মানুষ হবি’, ‘ভয় কি মরণেইত্যাদি গান।
এসব গানের সুরে-তালে-ছন্দে সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে কন্ঠ মেলায় গান কবিতার মিছিলে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতশত সাধারণ মানুষ।
এই পদযাত্রায় অংশ নেন অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ।
এছাড়াও গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর, কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী, অভিনেত্রী ত্রপা মজুমদার, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, নারী নেত্রী আয়শা খানমসহ আরও অনেকে।
এর আগে পদযাত্রার শুরুতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে শামসুর রাহমানেরস্বাধীনতা তুমিকবিতাটি আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী আহকাম উল্লাহ।
এসময় জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, “যখন আমাদের অভাব ছিল, শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল না, তখন আমাদের ভেতরে মানবিকতার বোধ ছিল, মানুষের মাঝে সম্প্রীতি ছিল। সবকিছু মিলিয়ে একটা উদার সংস্কৃতি চর্চাও ছিল।